অনলাইন প্রতারণা চক্রে গ্রেপ্তার ৭
দি নিউজ লায়নঃ আসানসোলে ঘাঁটি গেড়ে ভিন রাজ্যের দুস্কৃতিদের অনলাইনে প্রতারণা করার ঘটনা আবারও সামনে এল। আসানসোল উত্তর থানার রেলপারের রামকৃষ্ণ ডাঙ্গাল এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই অনলাইন প্রতারণা করা হতো। মঙ্গলবার রাতে এমনই একটি আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্রের পেলো আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ৬ ও বিহারের ১ যুবক সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ।
ধৃতদের বুধবার আসানসোল জেলা আদালতে তোলা তুলে বিচারকের কাছে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয় । বিচারক পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে তাদের জামিন নাকচ করে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন । ধৃতরা গত দুমাস ধরে রামকৃষ্ণ ডাঙ্গালের যে বাড়িতে থাকতো সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও ডাকঘরের রাবার স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ধরনের ফর্ম , প্রিন্টার, কয়েক হাজার মানুষের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর সহ খাম, একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের কলকাতার আলিপুর শাখার নামে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে সাতটি ফর্মে টাকা জমার তথ্য পুলিশ পেয়েছে।
তবে ঐ টাকা জমা পড়েছে কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি। এছাড়াও পুলিশ ২০ টি মোবাইল, একাধিক সিম কার্ড, একটি বহুজাতিক সংস্থার কুপন, ডাকঘরে রেজিস্ট্রি পোস্ট করতে বা স্পিড পোস্ট করার জন্য প্রায় হাজারখানেক খাম ও আসানসোলের আরএমএসের মাধ্যমে পাঠানো চিঠির তথ্য, অনলাইন শপিং কুপন, ডাক বিভাগের বার কোড সহ স্টিকার, নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, স্ক্র্যাচ কার্ড , হায়দ্রাবাদ থেকে কলকাতা আসা বিমানের গত ২০ জুনের দুটি টিকিট ছাড়াও অনেক ভুয়ো কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সাত জনের মধ্যে আছে বিহারের নওয়াদার বাসিন্দা পিন্টু কুমার, তেলেঙ্গানার মোদাবাদ ভেঙ্কটেশ, ইয়াদ গিরি ই , শ্রীমু পাতলাবদ, নরেশ পাতলাবদ, শঙ্কর পাতলাবদ ও নূর রাকেশ।
পুলিশ বিহারের নালন্দার বাসিন্দা রাহুল কুমারের সন্ধান করছে। যে এখনো ফেরার রয়েছে। রাহুলই এই সাতজনকে আসানসোলের রেলপারের আরকে ডাঙ্গালে প্রকাশ গুপ্তের বাড়ি ভাড়া করিয়ে দিয়েছিল। বাড়ির মালিককেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গেছে।
কিন্তু কিভাবে প্রতারণা চক্র চলত? পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, এই চক্রটি একটি বহুজাতিক অনলাইন সংস্থার বাৎসরিক অফারের নামে লোকদের কাছে চিঠি পাঠাত। যাদের কাছে চিঠি পাঠাতো তাদের ঠিকানা সহ তথ্য ঐ সংস্থা থেকেই কোনভাবে পেয়েছিলো। এরপরে ঐসব ব্যক্তিদের পুরস্কার জেতার প্রলোভন দেখানো হত। ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের পুরস্কারের টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে বলা হত। এবার ওই অভিযুক্তরা নকল এসবিআইয়ের স্লিপ ও স্ট্যাম্পের সাহায্যে ঐ ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের ছবি পাঠাত।
এরপর দিন সাতেক পরেও পুরষ্কারের টাকা জমা না পড়লে ব্যাক্তিরা অভিযুক্তদের যোগাযোগ করতেন। তখন তাদের প্রসেসিং ফি ও অন্যান্য চার্জের নামে মোটা অঙ্কের টাকা জমা দিতে বলা হতোন। এরপর একবারে গ্যাংয়ের মতো করে একাউন্টের তথ্য হ্যাক করে নিত এই চক্র।
এই প্রসঙ্গে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ডাঃ কুলদীপ এস এস বলেন, পুলিশ খতিয়ে দেখছে কোথা থেকে ও কিভাবে অভিযুক্তরা সাধারণ মানুষের অনলাইনের পার্সোনাল ডাটা পেত। ডাকঘর বা ব্যাংকের সঙ্গে এদের কোন সম্পর্ক আছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে।

Post a Comment